ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ , ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডিমলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ২০-০১-২০২৬ ০৮:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ২০-০১-২০২৬ ০৮:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন
ডিমলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে
মোঃ লিখন ইসলাম (নীলফামারী প্রতিনিধি): নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় ডিমলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে কয়েকজন ছাত্রীকে প্রকাশ্যে শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এক অভিভাবক। অভিযোগকারী অভিভাবক আশি-উল-ইসলাম লিমন জানান, তাঁর দুই কন্যা আফিফা ইসলাম (অষ্টম শ্রেণি) ও আরাবি ইসলাম (ষষ্ঠ শ্রেণি) ওই বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী। লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকালে বিদ্যালয় চলাকালে আফিফা ইসলাম ও আরাবি ইসলামসহ আরও কয়েকজন ছাত্রীকে সবার সামনে দাঁড় করানো হয়। ছাত্রীদের পরনের জুতায় লাল টেপ কেন লাগানো হয়েছে, এই প্রশ্ন তুলে তাদের প্রকাশ্যে গালিগালাজ করা হয়। একপর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কান ধরে উঠ-বস করানো হয় এবং সূর্যের দিকে চোখ রেখে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিল্লাহ ইসলাম, সহকারী শিক্ষক আবুল কাশেম এবং সহকারী শিক্ষিকা মঞ্জুশ্রী রানী রায়ের নাম উল্লেখ করে তাদের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে। অভিভাবক আশি-উল-ইসলাম লিমন বলেন, এ ধরনের শাস্তিমূলক ও অপমানজনক আচরণে তাঁর সন্তানরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তারা বিদ্যালয়ে যেতে ভয় পাচ্ছে এবং এতে তাদের পড়াশোনায় গুরুতর প্রভাব পড়ছে। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি শিক্ষা নীতিমালা ও শিশু অধিকার আইনের পরিপন্থী। ঘটনার পর এলাকায় অভিভাবক ও সচেতন মহলের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, তিনি এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উল্লেখ্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রতি যেকোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছেন এলাকাবাসী।

নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload

কমেন্ট বক্স

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ